ক্ষমতার লোভে ভুল সিদ্ধান্ত! পরে বললেন আমার আমও গেলো ছালাও গেল

ক্ষমতার লোভ মানুষকে অন্ধ করে দেয়। মানুষ ভুলে যায় দায়িত্ব কর্তব্য নীতি নৈতিকতা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সেই ক্ষমতা এবং সুযোগ সুবিধা হাতে আসে না। তখন আমও যায় ছালাও যায়। তেমনি এক ইসলামী দলের কেন্দ্রীয় নেতা এবং সাবেক এমপি মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম থেকে পদত্যাগ করে তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দেন।
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও পরকিল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ১ লক্ষ ২৬ হাজার ৯৯৮ । আর তৃণমুল বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহীনূর পাশা চৌধুরী পেয়েছেন মাত্র ৪ হাজার ভোট। এই আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৪৫টি।

নির্বাচনে কোনো আসনে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট কোনো প্রার্থী যদি না পান, তা হলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়। এই হিসেবে শাহীনূর পাশা জামানত হারাতে যাচ্ছেন।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের তিনি ছিলেন সহসভাপতি। দলের নীতি ভঙ্গ করায় দল তাকে বহিস্কার করে।
দলের সিদ্ধান্তে বিরুদ্ধে গত ২৩ নভেম্বর গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
সেই সাক্ষাতের খবর গণমাধ্যমে আসার পর তার দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামী ক্ষুব্ধ হয়, শাহীনুরের দলের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। আর শাহীনুর ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে সমর্থকদের কেউ আঘাত পেলে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।
একজন ইসলামী নেতা হয়ে কেন তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দিলেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে
শাহীনূর পাশা চৌধুরী বলেন, ‘ইসলামী বাকি দলের সঙ্গে আমার মিল নাই। আর জাতীয় পার্টির প্রতীকে আমি ভোট করতে চাইনি। সেই হিসাবে ভাবলাম তৃণমূল ভালো হবে, সেখান থেকে জিতলে বা হারলে কোনো লোকসান নেই।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ইসলামী ঐক্যজোট যে মোর্চা গঠন করে, সেই ঐক্যজোটের একটি দল ছিল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামী। সেই দলের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ নিয়ে ২০০১ সালে প্রথম নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। তবে হেরে যান আওয়ামী লীগের আবদুস সামাদ আজাদের কাছে।

সামাদ আজাদ ২০০৫ সালে মারা গেলে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে উপনির্বাচনে জিতে সংসদে আসেন শাহীনুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *