Home / সর্বশেষ / ‘দেশের হয়ে খেলার জন্য কারও হাত-পা ধরা তো সম্ভব নয়’

‘দেশের হয়ে খেলার জন্য কারও হাত-পা ধরা তো সম্ভব নয়’

সাকিব আল হাসান এই ব্যাট আর বলে যে ভালোবাসা পেয়েছেন, এককথায় তার মূল্য সীমাহীন; সহস্র কোটি টাকার নিক্তিতেও তা পরিমাপযোগ্য নয়।

এক কথায় তার এই ক্রিকেট জগতে পথ চলার গল্পটা অনেকটা হেলাল হাফিজের কবিতার বই ‘যে জলে আগুন জ্বলে’র মতো অপ্রতিরোধ্য, দুর্নিবার।

বিপরীতে সাকিব আল হাসানের আক্ষরিক অর্থে টাকার পেছনে ছোটার গল্পটা যেন অনেকটা ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’র মতো। সাকিব বারবারই বলতে চান, ‘এখন যৌবন যার, দু’হাত ভরে অর্থ কামানোর তার শ্রেষ্ঠ সময়।’

ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটের এই সময়ে টাকার পেছনে ছোটা ক্রিকেটারদের জন্য দোষের কিছু নয় বরং অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষক মনে করেন এসব লীগে খেলে অভিজ্ঞতা না নিলে বিশ্বমঞ্চে ভালো করা বড় দায়।

যদিও গেল টি-টোয়েন্টিতে আইপিএলে ম্যাচ না পাওয়া ওয়ার্নারই প্রমাণ করেছিলেন, ‘নিজেকে বিশ্ব মঞ্চে প্রমাণ করতে আইপিএলই শেষ কথা নয়।’

যদিও বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের অনেকেই ভাবেন সাকিবরা আইপিএলে ডাক না পেলে তাদের জাত যায়। বিপরীত মতও আছে। অনেক কিংবদন্তী ক্রিকেটার ও ক্রিকেট বিশ্লেষক-বিশেষজ্ঞরা মনে করে, অর্থই ক্রিকেট ও ক্রিকেটারের জন্য অনর্থের মূল হয়েছে।

দেশি ক্রিকেটের পোস্টার বয় সাকিব আল হাসানের কদরটাও ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটে মন্দ নয়। নিষিদ্ধ হওয়ার আগেও তিনি আইপিএল-সিপিএলে নিয়মিত ডাক পেতেন, আবার নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরেও পেয়েছেন। আর সেসব লিগে খেলতে যাওয়া নিয়েও নানা বিতর্কিত কাণ্ড ঘটিয়েছেন।

কেবল ব্যতিক্রম ছিল ২০২২ সাল, এই বছরই সাকিবকে নিতে আগ্রহ দেখায়নি আইপিএলের কোন দল। সেখানে খানিকটা ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাকিব।

সম্প্রতি টেস্ট কাপ্তানের ভার উঠেছে সাকিবের কাঁধে। অনেকেই ভেবেছিলেন এবার ক্রিকেটে আরও নিয়মিত হবেন সাকিব। তবে বল-ব্যাটে সদা চমক রাখা সাকিব ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও চমকে দিয়েছেন,

খেলেননি ওয়ানডে সিরিজে, এরপর জাননি জিম্বাবুয়েতে। আসা-যাওয়ার মাঝে থাকা সাকিবের এমন কাণ্ডকে অনেকে স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছেন। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে যেকোন সিরিজের আগেই ওঠে প্রশ্ন, ‘সাকিব এই সিরিজে খেলবেন তো?’

সাকিব যুক্তরাষ্ট্রে জিম্বাবুয়েতে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজে ধুঁকেছে টাইগাররা। বিপরীতে এশিয়া কাপের দল ঘোষণা নিয়ে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে বিসিবি।

গুঞ্জন ছিল, সাকিবের হাতেই উঠতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি কাপ্তানির ভার; ঠিক তখনই সব আলোচনায় জল ঢেলে তখন সাকিব ফেসবুক পোস্টে ‘বেটউইনার নিউজের’ স্তুতি গেয়ে পোস্ট করে জানিয়েছেন তিনি এই প্রতিষ্ঠানের ‘শুভেচ্ছা দূত’ হয়েছেন।

সাকিব বেটউইনার নিউজ নিয়ে বলেছেন, ‘এটা খেলাধুলার খবরের একমাত্র উৎস’। তার এমন ঘোষণায় অনেকেই চমকে গেছেন, কার তাদের কাছে ‘বেটউইনার’ শব্দটা এতোদিন ছিল খেলা বিষয়ক বেটিং, বাজি বা জুয়ার সাইট।

যে সাইটে অনলাইন ক্যাসিনো খেলার মতো সুযোগ রয়েছে। যদিও বেটউইনার নিউজে সরাসরি জুয়ার অপশন নেই। সাকিবের এমন পোস্টের পর ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট নানা মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

খোদ বিসিবি সভাপতিও এ নিয়ে কথা বলতে বাধ্য হন। কারণ বাংলাদেশের আইন আর বিসিবির নীতি দুটোতেই ‘জুয়া’ সংশ্লিষ্ট যেকোন কাজ অবৈধ।

বিসিবি পরিষ্কারভাবেই মনে করে, সাকিবের এ রকম একটি প্রতিষ্ঠানের পণ্যদূত হওয়াটা দেশের আইন এবং ক্রিকেট নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বেটিং প্রশ্নেও বিসিবি ‘জিরো টলারেন্স’ এমন ঘোষণাই দেয় নাজমুল হাসান পাপনের বোর্ড। এই চুক্তি মেনে নেবে না বলেও ঘোষণা দেয়া হয় বিসিবির তরফে।

তাই সাকিবকে চুক্তি বাতিল করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে বিসিবি। তবে সাকিব আল হাসান বিসিবির এই কথা মানতে নারাজ, এমনটাই শোনা যাচ্ছে। তিনি নাকি ‘বেটউইনার নিউজ জুয়া নয় সংবাদ বিষয়ক সাইট’ দাবি করে চুক্তি বহাল রাখতে চাইছেন।

বেটউইনার নিউজও তাদের ওয়েবসাইটের শুরুতে সতর্কতা দিয়ে লিখে রেখেছে এটা কোন বেটিং সাইট নয়, কেউ বেটিং বা বাজি ধরা নিয়তে এখানে আসবেন না। বেট উইনারের এমন সাধুতাও প্রশ্ন জাগায়, নিউজ সাইটকে কেন লিখেই প্রমাণ করতে হচ্ছে

‘এটা বেটিং সাইট নয়?’ পৃথিবীর অন্য কোন স্পোর্টস বিষয়ক সংবাদমাধ্যমের তো এমন সতর্কতা বাণী লেখার প্রয়োজন পড়েনি, তবে বেটউইনার নিউজের পড়ছে কেন? সেই প্রশ্নটাও তুলেছেন অনেকে।

বেটউইনার নিউজ আরও একটা প্রশ্নকে সামনে আনছে। অনেকে বলছেন, ‘যে সাকিব জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করে আইসিসির নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়লেন, তিনি কেন আবার জুয়া-সংযোগ আছে এমন প্রতিষ্ঠানের সাথে স্বেচ্ছায় জড়ালেন?

এই প্রশ্নের মাঝেই শোনা যাচ্ছে বেটউইনার নিউজের সাথে করা সাকিবের চুক্তির অর্থমূল্য নাকি ১০ কোটির কাছাকাছি। তাই কোটি টাকার প্রশ্নেই মুখোমুখি অবস্থানে সাকিব আর বিবিসি। বিসিবির সোজা কথায় তাই ঘি তুলতে চাইছেন না সাকিব, কারণ তিনি যে চুক্তির গ্যাড়াকলে জড়িয়েছেন স্বেচ্ছায়; সেখান থেকে বেরোনো নাকি অতো সহজ নয়।

যারা দেশের খেলা বাদ দিয়ে সাকিবের আইপিএল বা ফ্রাঞ্চাইজি লিগ খেলাকে সমর্থন দিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই সাকিবের বেটউইনার নিউজের মতো বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়ানোকে ভালো চোখে দেখছেন না। অনেকেরই দাবি, সাকিব যেখানে জাতীয় আইকন, সেখানে তিনিই যদি ইশারা-ইঙ্গিতে জুয়াকে সমর্থন করেন; তবে তাকে আইডল মানা তরুণরা কী শিখবে। খোদ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিবিও সেই নৈতিকতার প্রশ্নটাই তুলেছে বারবার।

এখন কোটি টাকার প্রশ্ন, সামনে কী ঘটছে? সাকিব বেটউইনার নিউজের মায়া কাটি বিসিবির ‘সুবোধ’ বালক হয়ে এশিয়া কাপে যাচ্ছেন নাকি বিসিবির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘটছে অন্য কিছু?

Check Also

যে কৃষক ভালো, তার ফসলও ভালো: মাহিয়া মাহি

আজ চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (গোমস্তাপুর, নাচোল, ভোলাহাট) আসনে মুহা. জিয়াউর …

Leave a Reply

Your email address will not be published.