এবার নতুন প্রচার শুরু করলো বিএনপি

আগামী ৭ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনকে সরকারি দল আওয়ামী লীগের তৈরি ‘ডামি দল’ ও ‘ডামি প্রার্থীর’ নির্বাচন বলে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে প্রচারে নেমেছে বিএনপি। এই ভোট ঐক্যবদ্ধভাবে বর্জন এবং সরকারকে অসহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে দলটি গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে প্রচারপত্র বিতরণ ও গণসংযোগ করেছে।

বিএনপির পাশাপাশি ১২-দলীয় জোট, এলডিপি, গণতন্ত্র মঞ্চ, গণফোরাম (একাংশ) ও পিপলস পার্টিও গতকাল দিনের বিভিন্ন সময়ে পৃথক গণসংযোগ করে। জামায়াতে ইসলামী পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে এই নির্বাচনের বিরুদ্ধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া এবি পার্টি নির্বাচন বর্জনের প্রচারে আগামীকাল শনিবার দুপুরে পদযাত্রা ও পরদিন রোববার বিকেলে রাজধানীতে মানববন্ধন কর্মসূচি দিয়েছে।

আজ শুক্র ও আগামীকাল শনিবারও সারা দেশে এই আহ্বানে প্রচারপত্র বিতরণ করা হবে। এরপর রোববার আবারও সকাল-সন্ধ্যা অবরোধের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি।
গতকাল সকালে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড ও বেইলি রোড এলাকায় প্রচারপত্র বিতরণ করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় তিনি পথচারী, দোকানের কর্মচারী, রাস্তায় চলা গাড়ি-রিকশার চালক ও যাত্রীদের হাতে প্রচারপত্র তুলে দেন। তাঁর সঙ্গে কয়েকজন নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। রাজধানীতে আর কোথাও গণসংযোগের তথ্য পাওয়া যায়নি।

বেইলি রোডে প্রচারপত্র বিলির সময় রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, ‘৭ জানুয়ারির ভাগ-বাঁটোয়ারার নির্বাচন জনগণ ইতিমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই নির্বাচনে ওরা (আওয়ামী লীগ) ছাড়া কেউ ভোটকেন্দ্রে যাবে না। আমরা জনসাধারণকে বলব, ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ডামি নির্বাচন বর্জন করুন। কেউ ৭ জানুয়ারি ভোটকেন্দ্র যাবেন না। আপনি নিজেও যাবেন না, অন্যকেও যেতে বারণ করুন।’

সমাবেশের পর গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা-কর্মীরা জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মিছিল ও গণসংযোগ করেন।
রিজভী আরও বলেন, এই নির্বাচন দেশ-বিদেশে কারও কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। কারণ, বিদেশিরা দেখছে, কীভাবে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে ডামি প্রার্থী সাজিয়ে সরকার একটি একতরফা নির্বাচন করছে।

‘প্রহসনের নির্বাচন বর্জন করুন, ভোটদান থেকে বিরত থাকুন’ শিরোনামে জামায়াতে ইসলামী একটি প্রচারপত্র গত রাতে উদ্বোধন করে তা বিতরণের জন্য দায়িত্বশীলদের হাতে দিয়েছে। এর আগে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মুজিবুর রহমান এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ভাগাভাগির নির্বাচনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

গত তিনটি নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস ও মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে সরকার দেশকে চূড়ান্তভাবে বাকশালি রাষ্ট্রে পরিণত করার দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির।

সমাবেশে জোটের নেতারা বলেছেন, আন্দোলন ও জনগণের বিরোধিতাকে দমন করার জন্য নাশকতার চাল চালছে সরকার। কিন্তু জনগণের কাছে এই চাল ধরা পড়ে গেছে।
বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক জোট ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করে। এতে সভাপতিত্ব করেন গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। সমাবেশে জোটের নেতারা বলেছেন, আন্দোলন ও জনগণের বিরোধিতাকে দমন করার জন্য নাশকতার চাল চালছে সরকার। কিন্তু জনগণের কাছে এই চাল ধরা পড়ে গেছে।

সমাবেশের পর গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা-কর্মীরা জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মিছিল ও গণসংযোগ করেন। আজ শুক্রবার বিকেল চারটায় শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণসংযোগ-পূর্ব সমাবেশের পর সায়েন্স ল্যাবরেটরি অভিমুখে এই জোটের মিছিলের কর্মসূচি রয়েছে।

গণফোরাম (একাংশ) ও পিপলস পার্টি গতকাল বিকেল সাড়ে চারটায় রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংক এলাকা থেকে পুরানা পল্টন মোড় এলাকায় প্রচারপত্র বিতরণ ও গণসংযোগ করে।

বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো নির্বাচনের তফসিল বাতিল ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছে। এর মধ্যে বিএনপি ভোট বর্জন ও সরকারকে অসহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে প্রচারে নেমেছে। আজ শুক্র ও আগামীকাল শনিবারও সারা দেশে এই আহ্বানে প্রচারপত্র বিতরণ করা হবে। এরপর রোববার আবারও সকাল-সন্ধ্যা অবরোধের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *