এক ছাত্রলীগের সভাপতিকে পিটিয়ে পা ভেঙে দিল আরেক ছাত্রলীগ সভাপতি

পাবনার ঈশ্বরদীতে মুলাডুলি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন সহ ৬-৭ জনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে দাশুরিয়া ডিগ্রী অনার্স কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। বুধবার ১৩ ডিসেম্বর বিকেল আনুমানিক ৩ ঘটিকার সময় উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের সিএনজি পাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে ছেলের গুরুতর আহত হওয়ার খবর পেয়ে আলমগীর হোসেনের পিতা আকমল হোসেন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বিকালে মুলাডুলি মুক্ত মঞ্চে বর্ধিত সভায় যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে আলমগীর ও তার কর্মী সমর্থকরা দাশুড়িয়া দিয়ে মুলাডুলি যাচ্ছিল। এ সময় উল্লেখিত স্থানে পৌঁছানো মাত্র দাশুড়িয়া ডিগ্রী অনার্স কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ ফাহিম এর নেতৃত্বে তার সমর্থকরা অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এতে আলমগীরের দু পা ভেঙে যায় এবং ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়।আলমগীর সহ দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মল্লিক মিলন মাহমুদ তন্ময় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মুলাডুলি ইউনিয়ন ছাত্রলীগ আয়োজিত আজকের বর্ধিত সভায় আমি সহ উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দরা অতিথি ছিলেন। সেখানে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন এর সভাপতিত্ব করার কথা ছিল। বর্ধিত সভায় যোগ দেয়ার প্রাক্কালে দাশুড়িয়া কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও তার অনুসারীরা আলমগীরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আলমগীরের দু পা ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়ে তার পিতা স্টক করে মারা গেছে। আমরা উপজেলা ছাত্রলীগ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে উপজেলা ছাত্রলীগ এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে তাদের স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ জানাবে।

মুলাডলি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিল্টন হোসেন জানান, আহত আলমগীর কে নিয়ে এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবস্থান করছি। তার দুই পা ভেঙ্গে গেছে।

মুলাডুলি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন মিঠু জানান, আলমগীর ও ফাহিম দুজনই আমার নিকট আত্মীয়। কলেজ সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল বলে শুনেছি। সেই দ্বন্দ্বের সূত্র ধরেই আজকের এই ঘটনা।

মুলাডলি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম মালিথা জানান, ঘটনাটি ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে। ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনভাবে কাম্য নয়। আহত বেশ কয়েকজন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে শুনেছি। এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দাশুড়িয়া ডিগ্রী অনার্স কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ ফাহিম এর মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনা ঐ এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নিরাপত্তা জোরদারের জন্য বাড়তি পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। তবে এখনো লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *