Home / সর্বশেষ / সময় নিয়ে আউট দিলেন আম্পায়ার, খেপে গিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন লিটন

সময় নিয়ে আউট দিলেন আম্পায়ার, খেপে গিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন লিটন

আম্পায়ার্স কলে ফিরতে হলো লিটন দাসকে। যে আউট নিয়ে মাঠে হয়ে গেলো এক চোট। লিটন তো খেপলেনই, আম্পায়ারের সঙ্গে আউট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবালও।

৪১ ওভারে ১৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয় স্পিনার আকিল হোসেনের এক ঘূর্ণি ডেলিভারি লিটনের পায়ে লাগলে আবেদন হয়।

আম্পায়ার শুরুতে আউট দেননি। অনেকটা সময় নেন। লিটন ভেবেছিলেন বেঁচে গেছেন। এমন সময়ে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। রিভিউ নেন লিটন।

রিপ্লেতে দেখা যায়, বল লেগ স্ট্যাম্প একটু ছুঁয়েছে, তবে বেশিরভাগই বাইরের দিকে। কিন্তু আম্পায়ার্স কলে আউট হয়েই সাজঘরে ফিরতে হয়েছে লিটনকে (৯ বলে ১)।

স্বাভাবিকভাবেই লিটন এতে খুশি হতে পারেননি। রাতে গজরাতে গজরাতে মাঠ ছাড়েন, যাওয়ার সময় আম্পায়ারের দিকে তাকিয়ে রাগত স্বরে কিছু বলতেও দেখা যায় লিটনকে। পরে আম্পায়ারের সঙ্গে কিছু সময় কথা বলেন তামিম।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১৭ রান। তামিম ৯ আর নাজমুল হোসেন শান্ত ৬ রানে অপরাজিত আছেন।

এর আগে শরিফুল-মিরাজদের তোপে ৯ উইকেটে ১৪৯ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ উইকেটে গুটিকয়েক ক্যাচ ড্রপ না হলে আরও কম রানেই আটকে রাখা যেতো ক্যারিবীয়দের।

গায়ানার প্রভিডেন্স পার্কে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচটিতে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। এই ম্যাচে দেশের ১৩৮তম ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে ক্যাপ পেয়েছেন এরই মধ্যে ২২টি কুড়ি ওভারের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। তার হাতেই প্রথম ওভার তুলে দেন তামিম ইকবাল।

বাঁহাতি ব্যাটার কাইল মায়ার্সের বিপক্ষে প্রথম ওভারে কোনো রান খরচ করেননি নাসুম। তবে একটি ওয়াইড বল করায় প্রথম ওভারটি মেইডেন পাননি তিনি। নাসুমের দারুণ ওভারের পর দ্বিতীয় ওভারে আক্রমণে আসেন মোস্তাফিজুর রহমান।

এ বাঁহাতি পেসারের প্রথম বলটি ছিল মিডল স্টাম্পের ওপর ইনসুইঙ্গার। যা খেলতে গিয়ে পুরোপুরি পরাস্ত শাই হোপ (০)। তার ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল আঘাত হানে স্টাম্পে। বাংলাদেশ পায় প্রথম সাফল্য।

সেই চাপ পরে ধরে রাখেন তাসকিন, মিরাজরাও। হাত খুলে খেলতে পারেননি ক্যারিবীয় ব্যাটাররা। প্রথম ১০ ওভারে মাত্র ৩০ রান তুলতে পারে স্বাগতিক দল।

কাইল মায়ার্স আর শামারাহ ব্রুকস শুরুর ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। দ্বিতীয় উইকেটে ৬১ বল খেলে ৩১ রানের ধীরগতির জুটি গড়েন তারা।

১২তম ওভারে এই জুটিটি ভাঙেন মেহেদি হাসান মিরাজ। তার দুর্দান্ত ঘূর্ণিতে কিছুই বুঝে ওঠার আগে স্টাম্প চলে যায় মায়ার্সের। অথচ বলটা ডিফেন্ড করেছিলেন মায়ার্স, বাঁক খেয়ে সেই বল ঢুকে যায় স্টাম্পে। মায়ার্স আউট হন ২৭ বলে ১০ করে।

এরপর আবারও খোলসে ঢুকে পড়ে ক্যারিবীয়রা। অনেকটা সময় উইকেট টিকিয়ে রেখেছিল তারা। ২১তম ওভারে জোড়া আঘাত হানেন শরিফুল।

বাঁহাতি এই পেসারকে তুলে মারতে গিয়ে মিডঅফে বদলি ফিল্ডার এনামুল হক বিজয়ের ক্যাচ হন রান নিতে গলদঘর্ম হওয়া ব্রেন্ডন কিং (৩১ বলে ৮)।

তার ঠিক পরের বলেই শরীরের বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের গ্লাভসবন্দী আরেক সেট ব্যাটার শামারাহ ব্রুকস (৬৬ বলে ৩৩)।

অবস্থা বেগতিক দেখে রয়েসয়ে খেলার বদলে রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন নিকোলাস পুরান আর রভম্যান পাওয়েল। তবে তাদের ১৯ রানের জুটিটি ২৮ বলের বেশি টিকতে দেননি মিরাজ।

২৬তম ওভারে টাইগার অফস্পিনারের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হন পাওয়েল (৯)। বল প্যাডে লাগলে আবেদনে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। পাওয়েল অবশ্য রিভিউ নিয়েছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। রিপ্লেতে দেখা যায়, লেগ স্টাম্প পেয়ে যেতো বল।

পরের ওভারে অভিষিক্ত নাসুম আহমেদ তার প্রথম ওয়ানডে উইকেটটি প্রায় পেয়েই যাচ্ছিলেন। ক্যারিবীয় ব্যাটার নিকোলাস পুরানের প্যাডে বল লাগলে আম্পায়ার আউট দেন। কিন্তু রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান পুরান।

এর মধ্যে ঘটে আরেক ঘটনা। পুরান রানের জন্য দৌড় দিলে স্ট্রাইকিং এন্ডে স্টাম্প ভেঙেছিলেন নুরুল হাসান সোহান। কিন্তু আম্পায়ারের আউটই বাঁচিয়ে দেয় ১৫ রানে থাকা পুরানকে।

রিভিউ নেন তিনি, তাতে দেখা যায় স্টাম্প মিস করে যেতো বল। আম্পায়ার আউট দেওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী বল ডেড হয়ে যাওয়ায়, পরে আর রানআউটটি ধরা হয়নি।

যদিও শেষ রক্ষা হয়নি পুরানের। পরের ওভারেই তাকে বোল্ড করে দেন মিরাজ। ২৪ বলে ১৮ রান করে সাজঘরে ফেরত যান ক্যারিবীয় এই মারকুটে ব্যাটার। এরপর আকিল হোসেন মিরাজের সরাসরি থ্রোতে রানআউট হলে একশর আগেই (৯৬ রানে) ৭ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

তবে ১১০ রানে ক্যারিবীয়দের ৯ উইকেট তুলে নিয়েও স্বস্তিতে শেষ করতে পারেনি টাইগার বোলাররা। বেশ কয়েকটি ক্যাচ ড্রপের সুবিধা নিয়ে শেষ উইকেট জুটিতে ৪৫ বলে ৩৯ রান তুলে দেন অ্যান্ডারসন ফিলিপ আর জেইডেন সিলস। ফিলিপ ২১ আর সিলস ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল শরিফুল ইসলাম। ৮ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ৪টি উইকেট শিকার তার। ৩৬ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। একটি উইকেট শিকার মোস্তাফিজুর রহমানের।

অভিষিক্ত নাসুম আহমেদ উইকেট না পেলেও ৮ ওভারে মাত্র ১৬ রান খরচ করেন। তাসকিন সমান ওভারে দেন ২৫।

Check Also

বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া, আশা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যুব …

Leave a Reply

Your email address will not be published.