সুদের কবল থেকে মুক্তির দিশারী মসজিদ ডট লাইফ

সমাজের দরিদ্র, অসহায় মানুষেরা প্রায়ই আটকে যায় মহাজনী সুদের জালে। অনেকেই সেই জাল থেকে আর মুক্ত হতে পারেন না। নিজের সর্বস্ব দেওয়ার পরও হয় না মহাজনের সুদের সমাপ্তি। এ পরিস্থিতি থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে এগিয়ে এসেছে মসজিদ ডট লাইফ। মুসলিম ধর্মের বাইরের মানুষেরাও এ থেকে সুবিধা পাবেন। এ পর্যন্ত ৩৫ জেলায় প্রায় দেড় কোটি টাকার সুদমুক্ত ঋণ বিতরণের ব্যবস্থা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

উদ্যোগটি হাতে নিয়েছিলেন ফেনীর পশ্চিম সোনাপুর গ্রামের যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী কামাল আহমেদ। ‘মসজিদ ডট লাইফ’ নামের ব্যতিক্রমী এক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি বিনা সুদে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিনামূল্যে সেবা নিচ্ছেন সব ধর্ম ও মতের দরিদ্র, সংকটাপন্ন মানুষ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কামাল আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, এই প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কোনো অফিস বা কর্মী নেই। এর কার্যক্রম পরিচালিত হয় মসজিদকে কেন্দ্র করে। আর সে কারণেই এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘মসজিদ ডট লাইফ’। প্রতি শুক্রবার এলাকাভিত্তিক এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

মূলত মসজিদ ডট লাইফ সরাসরি কোনো সেবা দেয় না কিংবা ঋণ অনুমোদন করে না। সুদমুক্ত ঋণ বিতরণ বিষয়ে আমাদের একটি সফটওয়্যার রয়েছে। সেটি ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকার মানুষ ঋণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা ও যাবতীয় হিসাব-নিকাশ এবং তথ্য সংগ্রহ করেন। তাদের আমরা প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকি।

মূলত বিভিন্ন এলাকার মসজিদগুলোতে শাখা খুলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে চলে মসজিদ ডট লাইফের কার্যক্রম। স্থানীয় পর্যায় থেকেই অনুদান সংগ্রহ করা হয়। পরে সেখান থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যক্তিভেদে ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করা হয়। এখান থেকে ঋণ নিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের আবেদনপত্রের ফি, প্রসেসিং ফি, এসএমএস চার্জ বা আপদকালীন সঞ্চয়- কিছুই প্রয়োজন হয় না। ঋণগ্রহীতা ঋণের অর্থ কয়েকটি কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারেন। ঋণগ্রহীতার ইচ্ছাতেই কিস্তির সংখ্যা ও টাকার পরিমাণ নির্ধারিত হয়।

কামাল আহমেদ জানান, বর্তমানে দেশের ৩৫টি জেলায় ১৫৯টি শাখার মাধ্যমে কার্যক্রম চলছে মসজিদ ডট লাইফের। এর কোনো কার্যালয় না থাকলেও এখানে স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন প্রায় দুই হাজার মানুষ। এ পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৯৩ হাজার ৮২০ টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। আদায় হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ ৪১ হাজার ৫০ টাকা। এখানে অনুদানদাতার সংখ্যা দুই শতাধিক। মুসলমান ছাড়াও অন্য ধর্ম ও মতের মানুষও রয়েছে এ থেকে সুবিধাভোগী মানুষের তালিকায়।

কামাল আহমেদ আরও বলেন, সাধারণত ক্ষুদ্র ব্যবসা, রিকশা-ভ্যান কেনা ও মেরামত, সেলাই মেশিন কেনা, পড়ালেখার ব্যয় এমন উৎপাদনশীল কাজেই বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়। এছাড়া কৃষি, চিকিৎসাসহ অন্যান্য প্রয়োজনেও ঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আগামী বছরের শুরুতে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষাঋণ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা চাকরি করে এ ঋণ পরিশোধ করতে পারবে। এভাবে ধীরে ধীরে পুরো দেশকে পাল্টে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এ প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা কামাল আহমেদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *