Home / সর্বশেষ / নিজের ‘দাগ’ মুছবেন কবে সাকিব!

নিজের ‘দাগ’ মুছবেন কবে সাকিব!

তার ব্যাটে টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা নেই পাঁচ বছর তিন মাস। এর ঠিক আগেই মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে সর্বশেষ দুটি সেঞ্চুরির প্রথমটি আবার ডাবল।

পরেরটির সঙ্গে যেটির শুরু আর শেষেও দারুণ মিল। শুরুর ব্যাটিংয়ে প্রবল সমালোচিত হলেও সাকিব আল হাসান বরং ইনিংসের শেষে হয়েছেন পরম সমাদৃত ও প্রশংসিত।

শেষ বিচার যখন সাফল্যের গুণগানই গেয়েছে, তখন শুরুর এলোমেলো ব্যাট চালানোর কথাও আর সেভাবে উচ্চারিত হয়নি। তাই বলে ওই দুই ইনিংসের শুরুর ‘দাগ’ মুছেও যায়নি।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৭-র জানুয়ারির ওয়েলিংটন টেস্টের প্রথম দিনের শেষ বিকেলেই যেমন। দিনের শেষে ১১ বল খেলে ৫ রানে অপরাজিত থাকার তথ্য দিয়ে বোঝানোর উপায় নেই যে কেমন পাগুলে ব্যাটিং করেছিলেন সাকিব!

নেইল ওয়াগনারের বলে একবার সহজ ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যাওয়া এই অলরাউন্ডার আউট হতে হতে বেঁচে যান আরো কয়েকবার। অথচ পরের দিন শেষ সেশনে আউট হওয়ার আগে ক্যারিয়ারের প্রথম ও একমাত্র ডাবল সেঞ্চুরি করা হয়ে গেছে তাঁর।

২৭৬ বলে ৩১ বাউন্ডারিতে সাজান ২১৭ রানের ইনিংস। দুই মাস পরে কলম্বোর পি সারা ওভালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের শততম টেস্টেও সাকিব শুরুতে আত্মঘাতী এবং শেষে সাফল্যে উজ্জ্বল।

টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলে ৮ বলে ১৮ রান করার পথে এমন তেড়েফুঁড়ে মারছিলেন যে ক্যাচ দিয়ে বাঁচেন একবার, অল্পের জন্য আউট হননি আরো একাধিকবার।

অথচ পরের দিন তাঁর ১৫৯ বলে ১১৬ রানের ইনিংসে লিড নেয় দল এবং শততম টেস্টে জয়ের পথে পা বাড়ায় বাংলাদেশও। শুরু আর শেষের এমন বৈপরীত্যেই কিনা কে জানে, টেস্টে ব্যাটিংয়ের ধরনও আর সেভাবে কখনোই বদলাতে দেখা যায়নি সাকিবকে।

বরং বিজ্ঞাপনের এই ভাষাই যেন হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকার টেস্ট ব্যাটিং সাফল্যের দর্শন, ‘দাগ থেকে যদি দারুণ কিছু হয়, তাহলে দাগই ভালো। ’

সেই দাগ ছিল সদ্যঃসমাপ্ত অ্যান্টিগা টেস্টের দুই ইনিংসে। প্রথম ইনিংসে ২ রানে ‘জীবন’ পান। পরে দলের দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় এবং সঙ্গীর অভাবে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে যথাসম্ভব রান বাড়িয়ে রাখতে চাওয়ার চিন্তা অবশ্য ছাড়ের দাবি রাখে।

কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে? দল তখন ঘোর বিপদে। ১০০ রানে পঞ্চম উইকেট হারানোর পর উইকেটে যাওয়া সাকিব মুখোমুখি হওয়া দ্বিতীয় বলেই কেমার রোচকে তুলে মারতে গিয়ে বেঁচে যান অল্পের জন্য।

টেস্টের তৃতীয় দিনে দলের দুঃসময়ে বাংলাদেশ অধিনায়ককে ওভাবে ব্যাট চালাতে দেখে বিস্ময় গোপন করেননি তখন ধারাভাষ্যে থাকা ক্যারিবীয় কিংবদন্তি কার্টলি অ্যামব্রোসও।

পরে আরো কিছু আগ্রাসী শট খেললেও সময়ে নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসেও করেছেন ফিফটি। নুরুল হাসানের সঙ্গে ১২৩ রানের জুটিতে লিড নিয়ে ক্যারিবীয়দের বড় লক্ষ্য ছুড়ে দেওয়ার স্বপ্ন দানা বাঁধছে যখন, তখন আবার সাকিবেই ছন্দঃপতন।

ফাঁদ পাতাই ছিল রোচের। কাভারে ক্যাচ দিয়ে তাতে পা দেন সাকিবও। সেই সঙ্গে বিসর্জনে যায় ক্যারিবীয়দের সঙ্গে লড়াই জমিয়ে তোলার স্বপ্নও। ওভাবে আউট হওয়াটা টিম ম্যানেজমেন্টের কারোরই পছন্দ হওয়ার কথা নয়।

যদিও হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো তাঁর আপত্তির কথা জানিয়েছেন সাকিবের শুরুর ব্যাটিং নিয়েই, ‘আমরা চাই না সে স্লগ করুক, চাই যে ভালো ক্রিকেট শটই খেলুক। মনে হচ্ছিল, ওর চাওয়া ছিল বোলারদের পাল্টা চাপে ফেলা।

তবে সে জানে যে শুরুর ওই পর্যায়টা পেরিয়ে গেলে সে ভালো ব্যাটিংই করবে। ’ সেটি করেছেনও, কিন্তু শেষ বিচারে অন্তত কলম্বোর সেই শততম টেস্টের মতো ফল আসেনি অ্যান্টিগায়।

এলে নিশ্চিতভাবেই ক্যারিবীয় দ্বীপে প্রথম টেস্টেও বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা ঝলমলিয়ে উঠতে পারত। সাকিব নিজেই সেই সম্ভাবনা শেষ করে এসেছেন। সে জন্য কোনো আফসোস করেছেন বলে শোনা যায়নি।

তবে নিজের ব্যাটিংয়ের ধরন যে বদলাবেন না, প্রকারান্তরে সেটি কিন্তু ঠিক জানিয়ে দিয়েছেন। অ্যান্টিগা টেস্ট শেষে সঞ্চালক ড্যারেন গঙ্গাকে বলে এসেছেন, ‘আমি ব্যাটিংয়ে ইতিবাচক থাকি এবং সব কিছু সাদাসিধেই রাখি।

আর এভাবে খেলেই আমি সফল হয়ে এসেছি। ’ তবে এই ধরন শেষ পাঁচ বছর তিন মাসে কোনো সেঞ্চুরির মুখও দেখাতে পারেনি তাঁকে। কলম্বোর সেই সেঞ্চুরির পর ২৩ ইনিংসে আটটি ফিফটি করেছেন।

৮০-ও পার হয়েছেন দুইবার। কিন্তু তিন অঙ্ক ছোঁয়া হয়নি একবারও। অর্থাৎ শুরুর ‘দাগ’ তাঁকে সাফল্য এনে দিয়েছে ঠিকই, তবে সাফল্যের নিশ্চয়তা হয়ে ওঠেনি। হলে তো আরেকটি সেঞ্চুরির জন্য এত দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হয় না!

Check Also

যে জরুরি কাজে তরিঘরি বাংলাদেশে আসছেন সৌরভ ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি

পুণ্যভূমি সিলেটে চলছে নারী এশিয়া কাপের অষ্টম আসর। গেল ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.