Home / সর্বশেষ / গুরুতর অভিযোগে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার হবে ইকুয়েডর, কপাল খুললো চিলির!

গুরুতর অভিযোগে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার হবে ইকুয়েডর, কপাল খুললো চিলির!

তিন আমেরিকা অঞ্চল থেকে এবার যে চারটি দেশ সরাসরি কাতার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ইকুয়েডর। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা,

উরুগুয়ের পর চতুর্থ দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে ইকুয়েডর। পেরু হয়েছে পঞ্চম, যারা মহাদেশীয় প্লে-অফে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে।

তবে, হঠাৎ করেই ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে চিলি। সেই অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাতার বিশ্বকাপ থেকেই বহিষ্কার হয়ে যেতে পারে ইকুয়েডর।

পরিবর্তে লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাই পর্বে সপ্তম হওয়া চিলিই সুযোগ পেতে পারে কাতার বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার। এ নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য ডেইলি মেইল অনলাইন, ফুটবলের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট গোলডট কমসহ ইউরোপের প্রথমসারির প্রায় সব মিডিয়া।

কী সেই অভিযোগ? চিলি ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ পেশ করেছে যে, ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার বাইরন ডেভিড ক্যাস্টিলো সেগুরা মূলতঃ ইকুয়েডরিয়ান নন। তিনি মূলতঃ কলম্বিয়ান। তার জন্ম তথ্য গোপন করে ইকুয়েডর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ক্যাস্টিলোকে নিজেদের পক্ষে খেলিয়েছে। যা অবৈধ।

যদি বাইরন ক্যাস্টিলো সত্যি সত্যি কলম্বিয়ান হয়ে থাকেন, তাহলে বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে তার কোনোভাবেই ইকুয়েডরের হয়ে খেলা বৈধ হবে না। সে ক্ষেত্রে ফিফা তদন্তে যদি এটা প্রমানিত হয়ে যায়,

তাহলে নিশ্চিত কাতার বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার হয়ে যাবে ইকুয়েডর। সে ক্ষেত্রে চিলি’র সামনে কাতার বিশ্বকাপে খেলার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়ে যাবে।

চার বছর পরপর বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার আরাধ্য স্বপ্ন পূরণের জন্য তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে থাকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। চার বছরের হাজার কিলোমিটার ভ্রমণ,

একের পর এক অসাধ্য সাধন করে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয় ৩২টি দেশ। সে জায়গায় যদি কোনো একটি কারণে কারো বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার হয়ে যেতে হয়, তাহলে, তার চেয়ে আর বড় কোনো ট্র্যাজেডি হয় না।

গত সপ্তাহেই ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে চিলি। ইকুয়েডরের প্রতিভাবান রাইট ব্যাক ক্যাস্টিলো আসলে তাদের দেশেরই না। জাতীয়তা নিয়ে প্রতারণা করেছেন তিনি কিংবা ইকুয়েডরের পক্ষ থেকে প্রতারণা করা হয়েছে।

চিলির অভিযোগ ক্যাস্টিলো জন্মগ্রহণ করেছেন কলম্বিয়ান শহর টুমাকোয়, ১৯৯৫ সালে। অথচ ইকুয়েডর খেলোয়াড়দের জন্মসনদ হিসেবে যে সব ডকুমেন্টস সরবরাহ করেছে, সেখানে দেখানো হয়েছে ক্যাস্টিলো জন্মেছেন গুয়াইয়াস রাজ্যের জেনারাল ভিলামিল প্লেয়াসে, ১৯৯৮ সালে।

গুইয়াকুইল ভিত্তিক ক্লাব বার্সেলোনা এসসির হয়ে খেলেন ক্যাস্টিলো। চিলির অভিযোগ, ক্যাস্টিলো মিথ্যা পাসপোর্ট এবং জন্মসনদ নিয়ে খেলে যাচ্ছেন।

স্প্যানিশ পত্রিকা মুন্ডো দেপোর্তিভো এরই মধ্যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যে, ফিফার তদন্তে যদি অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে ফিফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে- ইকুয়েডরকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করে দেবে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে ফিফার পক্ষ থেকে।

২০২১ সালে ইকুয়েডরের কোচ গুস্তাভো আলফারো ক্যাস্টিলোকে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক করান। এরপর ইকুয়েডরের হয়ে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে মোট ৮টি ম্যাচ খেলেন তিনি। যেখান থেকে ইকুয়েডর মোট ১৪ পয়েন্ট অর্জন করে।

বিশ্বকাপ থেকে যদি ইকুয়েডর বহিষ্কার হয়, তাহলে তাদের এই ১৪ পয়েন্ট বাতিল হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে ৯ম স্থানে চলে যাবে তারা। এ ক্ষেত্রে চিলি অন্তত ৫ পয়েন্ট বেশি অর্জন করবে। কারণ, তাদের বিপক্ষে দুটি ম্যাচেই খেলেছে ক্যাস্টিলো, যার একটি ম্যাচ জিতেছে ইকুয়েডর এবং একটি ড্র হয়েছে। ক্যাস্টিলো আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, বলিভিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং প্যারাগুয়ের বিপক্ষেও খেলেছে।

আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ছাড়া বাকিদের উপরে উঠে আসার কোনো সুযোগ নেই। ইনজুরির কারণে পঞ্চম স্থানে থাকা পেরু এবং ৬ষ্ঠ স্থানে থাকা কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারেননি তিনি। যে কারণে তাদের বিপক্ষে ইকুয়েডরের ম্যাচের কোনো প্রভাব পড়বে না। সে ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সুযোগ আছে চিলিরই এগিয়ে আসার এবং তারাই হবে চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দল। সুতরাং, কাতার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়ে যাবে চিলি!

তবে ২০২১ সালে এক জুডিসিয়াল রিভিউতে দেখা যাচ্ছে, ক্যাস্টিলো পুরোপুরি ইকুয়েডরিয়ান। তার সব ধরনের রেকর্ড ভ্যারিফাই করে কোচ আলফারো তাকে ইকুয়েডর জাতীয় দলে খেলার অনুমতি প্রদান করেন। ক্যাস্টিলোর আইনজীবী হোসে ম্যাসু বলেন, ‘আমি জানি না কেন এই ইস্যু আবারও সামনে উঠে এলো। কারণ, এরই মধ্যে কলম্বিয়া মিডিয়ায় এ বিষয়টা উঠে এসেছে এবং মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ক্যাস্টিলোর ব্যাপারে তো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগও ওঠেনি যে কারণে আমরা ফেডারেশনের (ফিফা) পক্ষ থেকে কোনো ধরনের শাস্তির মুখোমুখি হবো। বাইরন কাস্টিলো কখনোই কোনো অবস্থাতে কলম্বিয়ায় বসবাস করেনি। সে সব সময়ই ইকুয়েডরে বসবাস করেছে এবং এখানেই খেলেছে। আমি জানি না কোথা থেকে এসব পাগলামির উদয় হয়!’ তবে এটা ঠিক, ক্যাস্টিলো ইকুয়েডরিয়ান নাগরিকত্ব রয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত তার পুরো ক্যারিয়ার কাটছে ইকুয়েডরের হয়েই।

২০১৮ বিশ্বকাপের আগেও বলিভিয়ার এক ফুটবলার সম্পর্কে অভিযোগ তুলেছিল চিলি। বলিভিয়ার নেলসন ক্যাবরেরার জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এ নিয়ে তদন্ত হয়। তবে চিলির খুব একটা লাভ হয়নি। কারণ ক্যাবরেরা খেলেছিলেন মাত্র একটি ম্যাচ, পেরুর বিপক্ষে। সুতরাং, চিলির আপিল সঠিক প্রমাণিত হলেও তাদের লাভ হয়নি সেবার। এবারও তারা একই অভিযোগ তুলেছে। এই অভিযোগে জিততে পারলে, তারা খেলবে বিশ্বকাপে, না পারলে আবারও ব্যর্থ হবে, নিশ্চিত।

Check Also

গ্রুপপর্বেই শেষ বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের দৌড়, ক্রোয়েশিয়ার উত্তরণ

রেফারির শেষ বাঁশি। আহমেদ বিন আলী স্টেডিয়ামে বসে পড়লেন লুকাকু-ডি ব্রুইনারা। গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published.