সাকিবের মনোনয়ন নিয়ে ধানমন্ডিতে তোলপাড়

সাকিব আল হাসান ধানমন্ডির আসনে (ঢাকা-১০) আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে পারেন—এ নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। আর এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে ধানমন্ডি স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। দলের সাধারণ সম্পাদককে তাদের মনোভাব স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আওয়ামী লীগের তিনটি মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন। এর মধ্যে ছিল মাগুরা-১, মাগুরা-২, এবং ঢাকা-১০।

গতকাল হঠাৎ করেই সাকিব আল হাসান ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে যান। সেখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন। এই বৈঠকে কি আলোচনা হয়েছে সে সম্পর্কে কেউ কোন বক্তব্য রাখেননি। তবে ধারণা করা হচ্ছে যে, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সাকিব আল হাসানকে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। সাকিব আল হাসান ধানমন্ডির আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচন করবেন—এমন একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের ধানমন্ডির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন স্তরের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না। তারা মনে করছেন, এর ফলে রাজনীতিবিদদের ওপর জনগণের আস্থা হারাবে এবং রাজনীতিতে ত্যাগী পরীক্ষিতরা অনাগ্রহ দেখাবে।

সাকিব আল হাসান সম্পর্কে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা, যিনি বিভিন্ন সংগ্রামে আওয়ামী লীগের জন্য প্রচুর ত্যাগ স্বীকার করেছেন তিনি জানাচ্ছিলেন যে সাকিব আল হাসান নিঃসন্দেহে একজন ভালো খেলোয়াড়। কিন্তু একজন ভালো খেলোয়াড় হলেই তিনি রাজনীতিবিদ হবেন এমন গ্যারান্টি কে দিল? সাকিব আল হাসান ধানমন্ডিতে কোন দিন থাকেননি, ধানমন্ডিতে তার বাড়ি ঘর নেই এবং এই আসনের অলিগলিও তিনি চেনেন না। তার মধ্যে একজন প্রার্থীর পিছনে যদি নেতাকর্মীদেরকে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে হয় তাহলে তা হবে আওয়ামী লীগের জন্য একটি দুর্ভাগ্য—এমনটাই মনে করছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতারা।

আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলছেন, এরকম উড়ে এসে জুড়ে বসা প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হলে সংগঠন থাকবে না। এর আগেও একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে ধানমন্ডির আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি এই এলাকায় তেমন কিছুই করেননি। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে অনেকে মনে করছেন। কাজেই ধানমন্ডিতে এমন একজনের মনোনয়ন দেওয়া উচিত যিনি এই এলাকার সঙ্গে পরিচিত অথবা জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ।

আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলছেন যে, জাতির পিতার স্মৃতি বিজড়িত এই ধানমন্ডি আসন, এখানে রাজনীতিবিদদের মনোনয়ন দেওয়া উচিত। বিশেষ করে যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির আদর্শে উদ্বুদ্ধ এবং আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করেন। সাকিব আল হাসানকে নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে তোলপাড়ের একাধিক কারণ রয়েছে।

প্রথমত, সাম্প্রতিক সময়ে শাকিব আল হাসান যে সমস্ত কর্মকাণ্ডগুলো করেছেন বিশেষ করে তামিম ইকবালের সঙ্গে তার যে বিরোধ, এটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার অবস্থান এখন নেতিবাচক বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা।

দ্বিতীয়ত, সাকিব আল হাসান নানা সময় বিভিন্ন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন এবং এই বিতর্কের কারণে তিনি সমালোচিত।

তৃতীয়ত, সাকিব আল হাসান অনেক সময় উগ্র মেজাজ দেখান এবং মাঝে মাঝে তিনি তার সমর্থক এবং দর্শকদের ওপর আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এটিও একজন রাজনীতিবিদের জন্য নেতিবাচক। সর্বশেষ সাকিব আল হাসান এখনও ক্রিকেট খেলছে। এই অবস্থায় ধানমন্ডির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আসনে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তিনি কতটুকু কাজ করতে পারবেন সে প্রশ্ন আওয়ামী লীগের অনেকের রয়েছে।

সবকিছু মিলিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা এই বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং তারা আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। এই বার্তা ইতোমধ্যে ওবায়দুল কাদেরের কাছে দেওয়া হয়েছে। ধানমন্ডি এলাকার সঙ্গে সংযোগবিহীন রাজনীতিতে একেবারে উড়ে এসে জুড়ে বসা একজন ব্যক্তিকে ধানমন্ডির মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে যেন মনোনয়ন না দেওয়া হয়—এ নিয়ে ধানমন্ডিসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অনেক নেতারাই শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাবেন বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *