Home / খেলার খবর / জো রুটের দুর্দান্ত এক ইনিংসে লর্ডস টেস্ট জয়ের অনেকটা কাছে ইংল্যান্ড

জো রুটের দুর্দান্ত এক ইনিংসে লর্ডস টেস্ট জয়ের অনেকটা কাছে ইংল্যান্ড

বেন স্টোকস ১ রানেই ফিরতে পারতেন, তিনি ফিরলেন ৫৪ করে। ইংল্যান্ডের বর্তমান অধিনায়ক তবু একপর্যায়ে হার মেনেছেন, কিন্তু সাবেক অধিনায়ক কোনোভাবেই হাল ছাড়লেন না। জো রুটের দুর্দান্ত এক ইনিংসে লর্ডস টেস্টের তৃতীয় দিনটা জয়ের স্বাদ পেতে পেতেই শেষ করল ইংল্যান্ড। ২৭৭ রানের লক্ষ্যে নামা ইংল্যান্ড ৫ উইকেট হারিয়ে ২১৬ রান তুলেছে। এখন মাত্র ৬১ রান দরকার স্বাগতিকদের। উইকেটে যখন ৭৭ রানে অপরাজিত রুট থাকেন, তখন মাত্র বলা যেতেই পারে।

প্রথম দুই সেশনে এমন কিছু ভাবা যায়নি। এর পেছনে স্টোকস-রুটের ব্যাটিং বীরত্ব যেমন আছে, আছে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের দুর্ভাগ্যও। স্টোকসকে মাত্র ১ রানে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এই অলরাউন্ডার। তাঁর বল কাট করতে গিয়ে বোল্ড হয়েছিলেন ইংল্যান্ডের নতুন অধিনায়ক। হতাশায় মাথা নাড়তে নাড়তে মাঠ ছাড়ছিলেন স্টোকস, মাঝপথে থামতে হলো। নো বল! প্রথম ১৯ বলে ধুঁকতে থাকা স্টোকস জীবন পেয়ে থিতু হলেন, ওদিক একটু পরই বল করতে এসে হঠাৎ পায়ে টান পড়ায় মাঠ ছাড়লেন গ্র্যান্ডহোম।

গ্র্যান্ডহোমের বিদায় নিউজিল্যান্ডের জন্য এতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে সেটা বোঝা যায়নি। কিন্তু দিন যত এগিয়েছে অন্য তিন পেসার তত ক্লান্ত হয়েছেন। ভারমুক্ত করতে এজাজ প্যাটেল এসেছিলেন। তাঁকে বেধড়ক পিটুনি দিয়ে বোলিং থেকে তাড়িয়েছেন স্টোকস। মাত্র ২ ওভার করেই থেমেছেন ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় বোলার হিসেবে ইনিংসে ১০ উইকেট পাওয়া বোলারটি।

এর আগে ম্যাচের পরিচিত চিত্রনাট্যেই খেলা এগোচ্ছিল। রান তাড়ায় নেমে কাইল জেমিসনের দুর্দান্ত স্পেলের মুখে পড়ে ইংল্যান্ড। অ্যালেক্স লিস, জ্যাক ক্রলি, জনি বেয়ারস্টো—সবাই জেমিসনের শিকার। ওলি পোপকে বোল্ড করেন আরেক পেসার ট্রেন্ট বোল্ট। ৬৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ইংল্যান্ডের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারত। ৮০ পেরোনোর আগেই ‘আউট’ হয়েছিলেন স্টোকস। কিন্তু ওই যে ‘নো’ বল।

এরপর রুটের সঙ্গে জুটি গড়ে স্বাচ্ছন্দ্যেই এগোচ্ছিলেন স্টোকস। দারুণ ব্যাটিংয়ে রুটকেও ছাড়িয়ে পেয়ে যান অর্ধশতক। কিন্তু ৫৪ রানে জেমিসনের একটি বাউন্সারে পেরিস্কোপ শট খেলতে চেয়েছিলেন। শেষ মুহূর্তে গ্লাভসের ছোঁয়া নিয়ে বল চলে যায় উইকেটকিপারে কাছে। ভাঙে ৯০ রানের জুটি। জয় তখনো ১১৮ রান দূরে। কিন্তু জো রুট দারুণভাবে সামলে নিয়েছেন বাকিটা। ক্লান্তিতে পেয়ে বসে টিম সাউদি, বোল্ট ও জেমিসনকে। এজাজ প্যাটেল তো আক্রমণেই ফেরেননি। দিন শেষ হওয়ার আগে বেন ফোকসকে (৯) নিয়ে ৫৭ রান এনে দিয়েছেন রুট।

এর আগে ব্যাটিংয়ের শেষটাও হতাশার ছিল নিউজিল্যান্ডের। ড্যারেল মিচেল (৯৭) ও টম ব্লান্ডেলের (৯০) জুটি বড় লিডের স্বপ্নই দেখাচ্ছিল। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতক করে মিচেল আউট হন ১০৮ রানে। ১৯৫ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি ভাঙতেই ধস। টানা তিন বলে ৩ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। একটু পর টম ব্লান্ডেল ব্যক্তিগত ৯৬ রানে আউট হন জেমস অ্যান্ডারসনের বলে। ৪৯ রান যোগ করতেই শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে ২৮৫ রানে অলআউট কিউইরা। ৩টি করে উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ইংলিশদের সেরা দুই বোলার ছিলেন ম্যাথু পটস ও ব্রড।

Check Also

দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটাও তেমন ভালো হয়নি বাংলাদেশ দলের

অ্যান্টিগা টেস্টে প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটাও তেমন ভালো হয়নি বাংলাদেশ দলের। তবে প্রথম …

Leave a Reply

Your email address will not be published.