Home / V-NEWS / রিক্সা চালকের ছেলে যেভাবে হলেন জনপ্রিয় ক্রিকেটার। মেহেদী হাসান মিরাজের জীবন কাহিনী

রিক্সা চালকের ছেলে যেভাবে হলেন জনপ্রিয় ক্রিকেটার। মেহেদী হাসান মিরাজের জীবন কাহিনী

‘সব বাবা মা চায় তাদের সন্তান একটা ভালো চাকরি করুক, এটা আমিও চাইতাম। আমার ছেলে যে ক্রিকেটার হবে, তার উপরে আবার বিশ্বকাপে খেলবে, এটা তো চিন্তাই ছিলোনা।

আল্লাহর রহমত আর সবার দোয়াতে এখন মিরাজ এত দূর।’ -কথাগুলো বলছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের তারকা মেহেদী হাসান মিরাজের গর্বিত বাবা জালাল হোসেন। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলছে খুলনা জেলার মিরাজ।

খুলনার খালিশপুরের হাউজিংয়ের নর্থ জোনের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন মিরাজের পরিবার। সেখানে গিয়ে কথা হয় মিরাজের বাবা জালাল হোসেনের সঙ্গে। জালাল হোসেন আলাপচারিতায় বলেন, ‘আমাদের বাড়ি বরিশাল বাকেরগঞ্জের আউলিয়াপুর গ্রামে।

ওখানেই মিরাজের জন্ম হয়। মিরাজের যখন ৫ বছর বয়স তখন আমরা খুলনায় আসি। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট পাগল ছিলো মিরাজ। স্কুল ফাঁকি দিয়ে ক্রিকেট খেলতে যেতো।

বাড়ির কাছে বিএল কলেজ মাঠ থেকে শুরু করে পাড়া মহল্লার মাঠ আর সব জায়গায়ই ক্রিকেট খেলতো ও। মেতে উঠতেন তিনি। শুরু থেকে আমি মিরাজের ক্রিকেট খেলাকে পছন্দ করতাম না।

আমার নিষেধ থাকলেও ওর মায়ের অনুপ্রেরণা ছিল মিরাজের ক্রিকেট জীবনের শক্তি। আমি গরিব মানুষ, আর সবার মতো আমিও চাইতাম ছেলে ভালো পড়ালেখা করে সরকারি চাকরি করবে। বিসিএস বা ভালো পদে বসবে।

কিন্তু ক্রিকেট খেলে যে ও এতদূর আসবে এটাতো আমার কল্পনাতেও ছিল না। তার উপরে বিশ্বকাপ খেলাতো সবাই স্বপ্ন দেখে। মিরাজ এখন সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে। পিতা হিসেবে আমি গর্ববোধ করি।’

মিরাজ এখন ১৬ কোটি মানুষের : ছেলে যখন দেশের জন্য কিছু করতে পারে তখন তো পিতা হিসেবে আমার ভালো লাগবেই। আমি মনে করি মিরাজ এখন শুধু আমার না, মিরাজ এখন দেশের ১৬ কোটি মানুষের। ও যখন মাঠে নামে ১৬ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতেই মাঠে নামে।

ভালো থাকুক ওরা : যারা বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপে খেলতে গেসে সবাই আমার সন্তান। আমি শুধু আমার ছেলের জন্য না, পুরো টিমের সবার জন্য দোয়া করি। ভালো থাকুক ওরা সবাই। সুস্থ্য থেকে বাংলাদেশকে ওরা যেনো বিশ্বের দুয়ারে অনেক উচুঁতে নিয়ে যেতে পারে।

জায়নামাজে দোয়া করে মিরাজের মা : বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া সবার জন্য মিরাজের মা প্রতিরাতে জায়নামাজে দোয়া করেন। চোখের পানি ফেলে সব ছেলেদের জন্য মন থেকে দোয়া করে।

ছেলেরা যেনো ভালো খেলতে পারে। ক্রিকেট ভালো না বুঝলেও ছেলেকে দেখার সুযোগ মিরাজের মা ছাড়েনা। ছেলের সাফল্যে তিনি সব থেকে বেশি খুশি। যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না।

বিশ্বকাপ দেখতে নতুন টিভি : আমার ছেলে বিশ্বকাপে খেলছে তাই বাসায় নতুন টিভি কিনেছি। শুধু আমার বাসার জন্যই না মিরাজের মামা বাড়ি আর ওর গ্রামের বাড়িতেও নতুন টিভি কিনে দিয়েছি। সবাই যেনো আমার ছেলের খেলা দেখতে পারে।

বাসার সবাইকে নিয়ে খেলা দেখি : আগে খেলার দিকে তেমন ঝোক ছিলোনা, মিরাজ যখন থেকে খেলে তখন থেকে খেলার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে আমাদের। এখন তো খেলা হলেই বাসার সবাইকে নিয়ে খেলা দেখতে বসে যাই। সবাইকে বলি কাজ কাম রেখে সবাই খেলা দেখতে বসো।

নিরহংকার মিরাজ : আমার মিরাজের একটুও অহংকার নেই। একবার ও বাড়িতে এলে অনেক লোকজন ওকে দেখতে আসে। তার ভেতরে একটা খোড়া ছেলে সারা গায়ে ময়লা মেখে আসলে মিরাজ ওই ছেলেটাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে।

তারপর তার সাথে ছবি তুলে তাকে বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। তাই ওর জন্য এলাকাবাসী থেকে শুরু করে ওর বন্ধু বান্ধব সবাই দোয়া করে। সবাই সম্মান করে : আগে আমি ইজিবাইক চালাতাম।

অনেকে বলে ইজিবাইক চালকের ছেলে বিশ্ব কাপাচ্ছে। এখন যেখানেই যাই, সবাই সম্মান করে। পাড়ার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে যেকোনো জায়গায় গেলে সবাই বলে, ওই দেখো মিরাজের বাবা আসছে। শুনেই বুকটা ভরে ওঠে।

দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা : মিরাজ বিশ্বকাপে ভালো করুক, দেশের সেরা খেলোয়াড় হোক, আল্লাহর কাছে এটাই কামনা আমার। দেশবাসীর কাছে দোয়া চান মিরাজের বাবা।

এ বছরের ২১ মার্চ খুলনার খালিশপুরের কাশিপুর মেঘনা অয়েলের নিকটে রাজধানী মোড় এলাকায় দীর্ঘ ৫ বছরের প্রেমের সম্পর্কের ইতি টেনে উচ্চ মাধ্যমিক পড়–য়া রাবেয়া আক্তার প্রীতির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

বিশ্বকাপে মিরাজ খেলছে এ বিষয়ে নববধূ রাবেয়া আক্তার প্রীতি বার্তা২৪. কম কে বলেন, আমি ক্রিকেট ভালো বুঝিনা, ফুটবল খেলা বুঝি। আগে একটুও ক্রিকেট খেলা দেখতাম না।

কিন্তু এখন মিরাজ খেলে তাই ক্রিকেট দেখি। বিশ্বকাপে মিরাজ খেলছে, এটা আমার জন্যও অনেক গর্বের। পুরো বাংলাদেশ টিমকে নিয়ে আমরা অনেক আশাবাদী। বাংলাদেশ অবশ্যই অনেক ভালো কিছু করবে। দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন মিরাজের নববধূ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.