এক হালি খেয়েও কিভাবে জয় ছিনিয়ে নিতে হয় দেখিয়ে দিলেন লিওনেল মেসি

ইন্টার মিয়ামির হয়ে একের পর এক গোল করে যাচ্ছেন শুধু লিওনেল মেসি। চার ম্যাচে এ নিয়ে করলেন ৭ গোল। রোববার রাতেও করলেন জোড়া গোল। রোববার রাতে লিগ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মেসির ইন্টার মিয়ামি মুখোমুখি হয়েছিলো এফসি ডালাসের।

এই ম্যাচে জোড়া গোল করলেও ইন্টার মিয়ামি প্রায় পরাজয়ের মুখোমুখি হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ইন্টার মিয়ামি।

ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে খেলা শেষ হয় ৪-৪ গোলের সমতায়। ৮ গোলের রোমাঞ্চেও জয় পরজয় নির্ধারণ না হওয়া খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে মেসির ইন্টার মিয়ামি ম্যাচ জয় করে নেয় ৫-৩ ব্যবধানে।

ইন্টাার মিয়ামির হয়ে শুধু গোল করাই নয়, অসাধারণ পারফরম্যান্স করে সবার মন জয় করে নিয়েছেন মেসি। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুধা পান করাচ্ছেন তিনি ফুটবলপ্রেমীদের। কেউ কেউ তো তাকে অতিমানব বলেও অভিহিত করতে শুরু করেছেন।

প্রথমার্ধে ২-১ গোলে পিছিয়ে পড়েছিলো ইন্টার মিয়ামি। এরপর নিজে গোল করলেন, করালেন। সব মিলিয়ে নির্ধারিত সময়ে খেলা শেষ হয় ৪-৪ গোলে সমতায়।

ম্যাচের ৬ষ্ঠ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। এরপর ৩৭তম মিনিটে ফাকুন্দো কুইংননের গোলে সমতায় ফেরে এফসি ডালাস। মাচের ৪৫তম মিনিটে বার্নার্ড কামুঙ্গোর গোলে এগিয়ে যায় ডালাস।

মেসির জোড়া গোলের পর টাইব্রেকারে জিতলো ইন্টার মিয়ামি

৬৩ মিনিটে এফসি ডালাস ব্যবধান তৈরি করে ৩-১ ব্যবধানের। নিশ্চিত পরাজয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ইন্টার মিয়ামি। এ পর্যায়ে যেন আর মেসির ক্যারিশমাও কাজে লাগার কথা নয়।

৬৫তম মিনিটে একটি গোল করে ব্যবধান কমান বেঞ্জাামিন ক্রেমাসচি। কিন্তু এর তিন মিনিট পর আবারও পিছিয়ে পড়ে মিয়ামি। ৬৮তম মিনিটে রবার্ট টেলরের আত্মঘাতি গোলে হতাশার সাগরে ডোবে মেসির দল। ব্যবধান তৈরি হয় ৪-২ এ। নিশ্চিত পরাজয়।

এ মুহূর্তে জ্বলে ওঠেন মেসি। তার অসাধারণ ফুটবল প্রাণ ফেরায় মিয়ামি সমর্থকদের মধ্যে। পুরো দলের মধ্যেও যেন সেই প্রাণ সঞ্চারিত হলো। মেসিকে ঠেকাতে গিয়ে আত্মঘাতি গোল করলেন মার্কো ফারফান। ব্যবধান তৈরি হলো ৪-৩।

খেলার মধ্যে যেন দারুণ নাটকীয়তা তৈরি হলো। এবার নিজেকে লাইমলাইটে নিয়ে আসেন মেসি। ৮৫তম মিনিটে করে ফেললেন সমতাসূচক গোল। ম্যাচে দু’দল চলে আসে ৪-৪ গোলের সমতায়। এরপর রেফারি ৭ মিনিট ইনজুরি সময়ের খেলা চালালেও কেউ গোল করতে পারেনি। খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে।

এ পর্বে এসে প্রথম শটটি নেন মেসি। গোল হযে যায়। মিয়ামির হয়ে বাকি চারটি শট নেন সার্জিও বুস্কেটস, লিয়ান্দ্রো ক্যাম্পাানা, ক্যামাল মিলার এবং বেঞ্জামিন ক্রামসচি।

এফসি ডালাসের হয়ে গোল করেন পল অ্যারিওলা, ফাকুন্দো কুইংনন এবং জেসাস ফেরেইরা। প্যাক্সটন পোমিক্যাল নিজেদের দ্বিতীয় শটটি মিস করেন। যার ফলে জয় নিশ্চিত হয় ইন্টার মিয়ামির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *